নতুন ঠিকানায় স্বাগতম! পাঠকের জন্য আমাদের প্রথম উপহার: প্রথম অর্ডারে ডেলিভারি চার্জ একদম ফ্রি! ফ্রি শিপিং পেতে ব্যবহার করুন কুপন! কোড: Nafaah26 
Sale!

সভ্যতার সংকট

পৃষ্ঠা : 173
কভার : পেপার ব্যাক
সংস্করণ : 2nd Printed, 2016
ভাষা : বাংলা

সমকালীন বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইসলামকে সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অনুধাবন করার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বের দাবি রাখে। কারণ অনেকেই মনে করেন যে, খোদ মুসলিম বিশ্বের মধ্যে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে চলমানের সংঘাতের আসল কারণ ‘সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্ব’। এই একুশ শতক, এবং একুশ শতককে ছাড়িয়ে মুসলিম জাতির সভ্যতার সাথে ইসলামের এই যে সুগভীর সম্পর্ক, তা উপলব্ধি করতে হলে ‘সংস্কৃতি’ এবং সংস্কৃতির আলোচনায় ব্যবহৃত বিভিন্ন পরিভাষা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখা অপরিহার্য।

“মূলত, মানুষ যা কিছু করে, এবং যা কিছু থেকে বিরত থাকে, তা হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন সমাজভুক্ত হয়ে বেড়ে ওঠার ফলাফল, যা হয়তো একটি অন্যটি থেকে ভিন্ন বা বিপরীত প্রকৃতির”- এ পর্যবেক্ষণ থেকেই সংস্কৃতি নামক ধারণার উদ্ভব। মানুষ যেমন জৈবিকভাবে কিছু বৈশিষ্ট্য এবং গুণাবলী লাভ করে, তেমনিভাবে সমাজ থেকেও সে কিছু বৈশিষ্ট্য অর্জন করে।

জৈবিক যেসব বৈশিষ্ট্য বা অভ্যাস জন্ম পরস্পরায় সকল মানুষের মধ্যে সঞ্চারিত হয় তার মধ্যে আছে ঘুমানো, নিকটজন ও সম্পদের প্রতি ভালবাসা, হাসি-কান্না ইত্যাদি। আর সামাজিক পরস্পরা নির্দেশ করে একটি সমাজের আচার-প্রথা বা ঐতিহ্যকে, যেগুলো সাধারণত সমাজভেদে বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে, সবচেয়ে সহজভাবে বলা যায় যে, “মানব সমাজের যে উপাদানসমুহ মানুষের নিজের তৈরি তা-ই হলো সংস্কৃতি” কিংবা এভাবেও বলা যেতে পারে, “প্রতিটি মানুষ তাদের পরিবার এবং শিক্ষা-দীক্ষায়, আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিকভাবে তাদের সমাজের প্রচলিত যে প্রথা এবং ঐতিহ্য দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে বেড়ে ওঠে সেটাই হলো সংস্কৃতি।”

গোটা বিশ্বজুড়ে আমরা আজ অ্যামেরিকা এবং পশ্চিমা ইউরোপিয়ান সংস্কৃতির জয়জয়কার দেখতে পাই। গোটা বিশ্বে তাদের এই সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল ইউরোপিয়ান ঔপনিবেশিক শাসনামলে, বর্তমানে নব্য সাম্রাজ্যবাদের যুগেও পরোক্ষ শাসন হিসেবে তা টিকে আছে। মিডিয়ার সুদূরপ্রসারী প্রভাবে বিংশ শতাব্দীতে এসে পশ্চিমা সংস্কৃতি ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে। তাই এটা কোন আশ্চর্যের বিষয় নয়, যখন ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলে নেংটি পড়া দক্ষিণ অ্যামেরিকান কোনো উপজাতি তরুণকে অ্যামাজনের গহীন জঙ্গলে মাথায় নাইকি’র লোগো সম্বলিত বেসবল ক্যাপ পরে থাকতে দেখা যায়। কিংবা যখন দেখা যায়, কোনো এক মঙ্গোলিয়ান ঘোড়সওয়ার অ্যাডিডাসের ডোরাকাটা সোয়েট-প্যান্ট পরে, কিংবা রেবক এর ট্রেইনার পায়ে দিয়ে গোবি মরুভূমিতে ধাবমান। মুসলিম অমুসলিম নির্বিশেষে প্রায় সকল দেশেই পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাব আজ প্রবল। বিভিন্ন সংস্কৃতি ও সভ্যতার মধ্যে এই সংঘাত একটি অনিবার্য স্বাভাবিক পরিণতি। কারণ পাশ্চাত্য কিংবা প্রাচ্য সবখানেই সংস্কৃতি এমনই একটি বিষয় যা তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক নীতিসমূহকে নিয়ন্ত্রণ করে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্যামুয়েল পি হান্টিংটন সভ্যতার এই সংঘাতকে সংক্ষেপে তুলে ধরেছেন এভাবে:

“ইসলামি মৌলবাদ পশ্চিমাদের জন্য আসল সমস্যা নয়; বরং সম্পূর্ণ একটি ভিন্ন সভ্যতার ধারক হওয়ার কারণে স্বয়ং ইসলামই তাদের আসল সমস্যা। কারণ এ ধর্মের অনুসারীরা তাদের নিজেদের জীবনাচার বা ইসলামের সংস্কৃতিকে শ্রেষ্ঠ বলে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে; যদিও নিজেদের শক্তি-সামর্থ্যের দীনতা বর্তমানে তাদের মনকে কিছুটা দুর্বল করে রেখেছে। একইভাবে ইসলামের জন্যও CIA কিংবা অ্যামেরিকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সত্যিকার কোনো সমস্যা নয়, বরং পুরো পশ্চিমা সভ্যতাই তাদের জন্য একটি বড় সমস্যা। কারণ তারাও বিশ্বাস করে যে, তাদের লাইফস্টাইল হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বিশ্বজনীন। এমনকি তারা এ-ও বিশ্বাস করে যে, শক্তি প্রয়োগ করে হলেও গোটা পৃথিবীর মানুষকে তা মেনে নিতে বাধ্য করা উচিত। ইসলাম এবং পশ্চিমা বিশ্বের এই দ্বন্দ্ব-সংঘাতের পিছনে এটাই হলো মূল কারণ।” (দি ক্ল্যাশ অব সিভিলাইজেশন পৃষ্টা ২১৭-৮)

Original price was: 350.00৳ .Current price is: 224.00৳ .

36%
ছাড়
- +

আপনার পছন্দের আরও বই

Scroll to Top