রামাযানের ফাযায়েল ও রোযার মাসায়েল
আল্লাহ পাক কুরআনে বলেন,
‘রামাদান মাস; যে মাসে মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরুপে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। অতএব তোমাদের মধ্যে যে কেউ এই মাস পাবে সে যেন এ মাসে রোযা রাখে।’ [সূরা বাকারাঃ ১৮৫]
প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিমের উপর রামাদানের এই ত্রিশটি রোযা ফরয করা হয়েছে। আজকে আমরা এমন এক সময়ে আছি বেশীরভাগ মুসলিম ঘরে জন্ম নেওয়া মানুষেরাই তাদের দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে বলতে গেলে তেমন কিছুই জানে না। তারা তাদের উপর অর্পিত ফরযিয়াত সম্পর্কে বলতে গেলে এক প্রকার অজ্ঞতার মধ্যেই দিন পার করে দিচ্ছে। রামাদান বলতে আজ জাস্ট একটা ট্র্যাডিশান হয়ে গেছে। চোখ কচলে ঘুম থেকে উঠে কোনমতে সেহেরিটা খাওয়া, ইচ্ছে হলে নামায পড়া নইতো লেপ মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে পড়া, সারাদিন শুয়ে বসে কাটিয়ে রাজ্যের খাবার নিয়ে ইফতার করতে বসা, যন্ত্রের মত তারাবিতে দ্রততার সাথে কুরআন খতম দেওয়া, শবে কদরের জন্য শেষ দশদিনের একটা বিশেষ দিন ফিক্সড করে আমল করা, ব্যস এইতো! অথচ রামাদানের প্রতিটি দিনের সে কি বিশাল ফযিলত, কি অপূর্ব সুযোগ নিজেদের গুনাহ খাতা সাফ করে দেওয়ার, নিজেদের আমলের মাধ্যমে আখিরাতে সম্মানিত হওয়ার।
আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘আল্লাহ আযযা ওয়া যাল বলেন, ‘আদম সন্তানের প্রত্যেক আমল তার নিজের জন্য; তবে রোযা নয়, যেহেতু তা আমারই জন্য এবং আমি নিজেই তার প্রতিদান দেব।
হযরত সাহল বিন সাদ (রাঃ) হতে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘জান্নাতের এক প্রবেশ দ্বার রয়েছে, যার নাম রাইয়ান। কিয়ামতের দিন ঐ দ্বার দিয়ে রোযাদারগণ প্রবেশ করবে। তারা ছাড়া তাদের সাথে আর কেউই ঐ দ্বার দিয়ে প্রবেশ করবে না। বলা হবে ‘কোথায় রোযাদারগণ?’ সুতরাং তারা ঐ দরোজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। অতঃপর যখন তাদের সর্বশেষ ব্যক্তি প্রবেশ করবে তখন সে দ্বার রুদ্ধ করা হবে। ফলে সে দ্বার দিয়ে আর কেউই প্রবেশ করতে পারবে না। [বোখারী, মুসলিম]
সাহাবীরা রামাদানের চার মাস আগে থেকেই রামাদানের জন্য প্রস্তুতি নিতেন। এছাড়াও এই রামাদান মাসের শেষ দশ দিনে রয়েছে হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম শবে কদরের দিন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাহাবীরা শেষ দশ দিনে শবে কদর তালাশ করতেন। দেখতে দেখতে আরেকটি রামাদান আমাদের সামনে। আল্লাহর বান্দারা ঠিকই রামাদানের জন্য প্রস্তুত থাকে, একে বরণ করে নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে। কিন্তু এই মহান মাসের ফযিলতকে কাজে লাগিয়ে, আল্লাহর পছন্দনীয় কিছু আমল করে রামাদানকে নিজেদের নাজাতের উছিলা বানানোর জন্য চাই সেই রামাদানের খুঁটিনাটি বিষয়ে শরিয়া জ্ঞান। রামাদানের সেই চাঁদ দেখা থেকে সেহেরি, ইফতার, তারাবি, রোযা কখন বাতিল হয়, রোযা অবস্থায় কোন কাজগুলো করা জায়েজ নয়, কোন কাজগুলো করলে রোযা বাতিল হবে না, রোযার সময়ের ফযিলতপূর্ণ আমলগুলো, শেষ দশদিনের আমল, ইতিকাফ, শবে কদর এমন সব খুঁটিনাটি ফিকহি মাসয়ালা নিয়েই মূলত এই বই। লিখেছেন সবার পরিচিত আলেমে দ্বীন শাইখ আব্দুল হামিদ ফাইযি আল মাদানি। আর বইটি প্রকাশিত হয়েছে তাওহীদ পাবলিকেশন্স থেকে।
240.00৳ Original price was: 240.00৳ .168.00৳ Current price is: 168.00৳ .
ছাড়
আপনার পছন্দের আরও বই






