
রাজমালা বা ত্রিপুরার ইতিহাস
কামরূপ ও রাক্ষিয়াং১ দেশের মধ্যবর্তী স্থানকে প্রাচীন আর্য্যগণ সুক্ষ আখ্যা দান করেন। ইহার অন্য নাম কিরাত দেশ। বিষ্ণুপুরাণে লিখিত আছে, ভারতের ‘পূর্বদিকে কিরাতের বাস।” সুতরাং দেখা যাইতেছে যে, লৌহিত্যবংশীয় মানবদিগকে আর্য্য ঋষিগণ কিরাত আখ্যায় অভিহিত করিয়াছেন। তদনন্তর কিরাত ভূমি ‘তৃপুরা” আখ্যা প্রাপ্ত হয়। এই ‘তৃপুরা” শব্দ হইতে ক্রমে ত্রীপুরা এবং ‘ত্রীপুরা’ হইতে ত্রিপুরা শব্দের উৎপত্তি। তৃপুরা শব্দের মূল নির্ণয় করা সুকঠিন। তন্ত্র ও পুরাণ (১) আলোচনা দ্বারা বিবিধ প্রকার সিদ্ধান্ত অনুমান করা যাইতে পারে, ‘ত্রিপুরাসুর হইতে ত্রিপুরা নামের উৎপত্তি কিম্বা ত্রিপুরাসুর নির্মিত তিনটি পুরী হইতে ত্রিপুরা নামের উদ্ভব; অথবা ভগবতী ত্রিপুরাসুন্দরী হইতে ত্রিপুরা নামের উৎপত্তি কিম্বা রাজবংশের স্থাপন কর্তার নামানুসারে এই দেশ ত্রিপুরা আখ্যা প্রাপ্ত হইয়াছে।”২ এই সকল সিদ্ধান্ত আমাদের বিবেচনায় নিতান্ত অযৌক্তিক। যে অনার্য্য কিরাতদিগকে আমরা ‘তিপ্রা” (ত্রিপুরা) আখ্যায় পরিচিত করিয়া থাকি, তাহাদের জাতীয় ভাষায় জলকে ‘তুই” বলে। এই তুই শব্দের সহিত ‘প্রা” সংযুক্ত করিয়া ‘তুইপ্রা’ শব্দ নিষ্পন্ন হইয়াছে।
400.00৳ Original price was: 400.00৳ .317.00৳ Current price is: 317.00৳ .
ছাড়
আপনার পছন্দের আরও বই



