- You cannot add "হজরত শাহ জালাল ও সিলেটের ইতিহাস" to the cart because the product is out of stock.
- You cannot add "হজরত শাহ জালাল ও সিলেটের ইতিহাস" to the cart because the product is out of stock.
মোগল বংশ
প্রকাশের পর শতাব্দী পেরিয়ে যাওয়া একটি গ্রন্থ কত সাবলীল ও প্রাসঙ্গিক হতে পারে শ্রীরামপ্রাণ গুপ্ত প্রণীত ‘মোগল বংশ’ গ্রন্থটি পাঠের আগে অনেক পাঠকই তা অনুধাবন করতে পারবেন না। এ যুগের অধিকাংশ পাঠকের এই গ্রন্থ ও গ্রন্থকার সম্পর্কে তেমন স্পষ্ট ধারণা রাখার সুযোগ কম। কারণ কয়েক যুগ ধরে বইটি বাজারে পাওয়া যাচ্ছিল না। নতুন করে মুদ্রিত হয়নি। দেড় শতাধিক বছর আগে জন্ম নেওয়া একজন নিভৃতচারী মেধাবী লেখক শ্রীরামপ্রাণ গুপ্ত কতটা নিষ্ঠায় মোগল বংশ এবং ভারতে মোগলদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইতিহাস লিখে সফল হয়েছিলেন এ এক বিস্ময়। গ্রন্থকার ইতিহাস লেখক হিসেবে নিজের দায়িত্বশীলতাকে ভোলেননি। তিনি মোগল বংশ গ্রন্থটি লিখতে যেসব সূত্র ব্যবহার করেছেন এর একটি তালিকা যুক্ত করেছেন গ্রন্থটিতে। সে যুগে সাধুরীতির ভাষা ও শব্দশৈলী ছিল স্বতন্ত্র। বর্তমান সময়ের পাঠক এই ভাষাশৈলীতে অনেকটা অনভ্যস্ত। অথচ লেখক শ্রীরামপ্রাণ গুপ্ত বিস্ময়কর দক্ষতা দেখিয়ে তাঁর ভাষাশৈলীর সাথে পাঠককে সাবলীলভাবে যুক্ত করতে পেরেছেন।
ভারতের মোগল ইতিহাস লিখতে অধিকাংশ গ্রন্থ যেভাবে বিষয়সূচির বিন্যাস ঘটায় তা থেকে বেরিয়ে এসে নিজের দায়িত্ববোধকে স্পষ্ট করেছেন লেখক। পাঠকের মোগল ইতিহাস জানার পূর্বাপর সকল কৌতূহল তিনি বিবেচনায় রেখেছেন। তাই ভারতে মোগল বংশের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবরকে দিয়ে অধ্যায় বিন্যাস শুরু করেননি। বরঞ্চ মোগল বংশের আদি সূত্রে ফিরে গিয়েছেন। বাবর ষোল শতকের প্রথমার্ধে ভারত অধিকার করলেও লেখক যাত্রা শুরু করেছেন দশ শতক থেকে। বাবরের মাতৃকুলের বিখ্যাত যোদ্ধা চেঙ্গিস খান এবং অতঃপর পিতৃকুলের খ্যাতিমান যোদ্ধা তৈমুর লং-এর কর্মভূমিকার মধ্য দিয়ে মোগলদের সাফল্যের সূত্র খোঁজার চেষ্টা করেছেন। এই দুই পরাক্রমশালী যোদ্ধা ও তাঁদের কৃতিত্বের আদ্যোপান্ত বর্ণনা করতে গিয়ে লেখক সত্তর পৃষ্ঠারও বেশি যুক্ত করেছেন। অধিকাংশ পাঠকই মানবেন চেঙ্গিস খান ও তৈমুর লংকে এতটা বিস্তারিতভাবে জানার সুযোগ কম গ্রন্থেই পাওয়া যায়।
ভয়ংকর সংগ্রামী জীবন ছিল বাবরের। বাবরের অভিযাত্রার বিস্তারিত আলোচনা করেছেন শ্রীরামপ্রাণ গুপ্ত। নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে ভারতে মোগল সাম্রাজ্যের শক্ত ভিত্তি গড়তে হয়েছিল তাঁকে। প্রয়োজনীয় তথ্যসূত্র ব্যবহার করে সেসব ইতিহাস বিস্তারিত উপস্থাপন করা হয়েছে এই গ্রন্থে।
১৭০৭ থেকে ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে কমপক্ষে ১১ জন শাসক দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন। এদের মধ্যে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনকালে কয়েকজন ছিলেন নামেমাত্র সম্রাট। এদের সম্পর্কে ধারণা না দিয়ে লেখক নিজের দায়িত্ব শেষ করেননি।
রাজনৈতিক ইতিহাসের বাইরে মোগলদের প্রশাসনিক ইতিহাসও যথেষ্ট দায়িত্বশীলতার সাথে আলোকপাত করা হয়েছে এই গ্রন্থে। এখানে মোগল সাম্রাজ্যের শাসনব্যবস্থা, রাজস্বব্যবস্থা, মনসবদারিব্যবস্থা প্রভৃতি সম্পর্কে আলোচনা করে পূর্ণাঙ্গ করা হয়েছে গ্রন্থটি।
গ্রন্থে যুক্ত করা পরিশিষ্টটিও যথেষ্ট মূল্যবান।
480.00৳ Original price was: 480.00৳ .383.00৳ Current price is: 383.00৳ .
20%
ছাড়
আপনার পছন্দের আরও বই
