মাকতুবাত ইমাম গাযালী (রাহ্.)
মহাত্মা ইমাম গাযালীর (রাহ্.) ছোট ভাই এবং অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহচর আহমদ গাযালী কর্তৃক সংকলিত ইমাম গাযালীর মাকতুবাত বা পত্রাবলী বাংলা ভাষাভাষী পাঠকগণের খেদমতে পেশ করতে যেয়ে আল্লাহ্ তা’আলার প্রতি কৃতজ্ঞতায় মাথা নত হয়ে আসছে।
গাযালী জীবনের পরিণত মুহূর্তগুলিতে লেখা এই সমস্ত পত্রের বিষয়বস্তু যে কত মূল্যবান, তা জ্ঞানী পাঠক মাত্রই অনুধাবন করতে পারবেন।
সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মহামনীষী ইমাম আবু হামেদ মুহম্মদ আল-গাযালী (রাহ্.) খোরাসানের অন্তর্গত তুস এলাকাধীন তাহেরান নামক ক্ষুদ্র শহরে হিজরী ৪৫০ সন মোতাবেক ১০৫৮ খ্রীস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। রজ্জু তৈরির কাজ ছিল তাঁর পারিবারিক পেশা। সেই পেশার সম্পর্কেই তিনি গাযালী নামে খ্যাত হয়েছেন বলে অধিকাংশ জীবনীকারের অভিমত।
অতি অল্প বয়সে পিতা এবং মাতা উভয়েই ইন্তেকাল করেন, এতিম অবস্থায় ছোট ভাই আহমদসহ পিতার এক বন্ধুর কাছে কিছুকাল লালিত-পালিত হয়ে প্রাথমিক শিক্ষালাভ করেন। কিছুকাল পর পিতার সেই বন্ধু অসহায় দুটি বালককে প্রতিপালন করতে অপারগ হয়ে দুজনকেই একটি আবাসিক মাদরাসায় ভর্তি করে দেন।
অতি কল্পকালের মধ্যে অসাধারণ প্রতিভাধর গাযালী ওস্তাদগণের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হন। তাহেরানের আহমদ ইবনে মুহম্মদ যারকানীর নিকট ফিকাহ শাস্ত্র অধ্যয়নের পর জুরজান শহরে ইমাম আবু নসর ইসমাঈলীর নিকট কিছুকাল শিক্ষা লাভ করেন।
বাল্যকাল হতেই গাযালীর জ্ঞানস্পৃহা এত প্রবল ছিল যে, তা পূরণ করা সাধারণ ওস্তাদগণের পক্ষে সহজসাধ্য ছিল না। তাই ওস্তাদগণের পরামর্শক্রমে তিনি তদানীন্তন দুনিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ নিযামিয়া মাদরাসায় গিয়ে ভর্তি হন। মুসলিমজাহানের সর্বপ্রাচীন এবং সর্বাপেক্ষা ঐতিহাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল নিশাপুরের নিযামিয়া মাদরাসা।
সেলজুক সুলতানের স্বনামধন্য উজির নিজামুল মূলক তূসী ছিলেন এই মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা এবং পৃষ্ঠপোষক। ইমাম আবদুল মালেক জিয়াউদ্দীন ছিলেন এই প্রতিষ্ঠানেক অধ্যক্ষ। আল্লামা আবদুল মালেক জিয়াউদ্দীন দীর্ঘকাল পবিত্র মক্কা-মদীনায় অবস্থান করে সমগ্র মুসলিমজাহানব্যাপী সুখ্যাতি অর্জন করেছিলেন। এজন্য তাঁর উপাধি হয়েছিলÑ “ইমামুল-হারামাইন”। গাযালী যখন ইমামুল হারামাইনের কাছে উচ্চশিক্ষা লাভ করার উদ্দেশ্যে উপস্থিত হন, তখন ইমাম সাহেবের তত্ত্বাবধানে চারশতাধিক বিশিষ্ট শিক্ষার্থী উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণে নিয়োজিত ছিলেন, কিন্তু অল্প কিছুদিনের মধ্যেই গাযালী ইমামুল হারামাইনের সর্বাপেক্ষা প্রিয় সাগরেদে পরিণত হলেন।
ইমাম সাহেব মন্তব্য করতেন, আমার সাগরেদগণের মধ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিভাধরেরা রয়েছে। কিন্তু তাদের সকলের মধ্যে গাযালী অনন্য প্রতিভার অধিকারীÑ গাযালী যেন অতল সমুদ্র।
ইমামুল হারামাইন গাযালীর ন্যায় সাগরেদকে নিয়ে গর্ব করতেন। উচ্চতর শিক্ষা লাভ করার সময়ই ইমাম সাহেব গাযালীকে মাদরাসার একজন সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দান করেন। ইমাম সাহেবের জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গাযালী প্রিয় ওস্তাদের সাহচর্য ত্যাগ করেন নাই।
নিশাপুরে ইমামুল হারামাইনের সাহচর্যে থাকা অবস্থাতেই গাযালী কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করে খ্যাত হয়ে ওঠেন। ‘মান্খুল’ নামক ফিকাহ্ শাস্ত্রের সমালোচনামূলক একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হলে প্রিয় ওস্তাদ ইমামুল হারামাইন মন্তব্য করেছিলেনÑ “আমার গতি যেখানে শেষ, গাযালী সেখান হতে যাত্রা শুরু করছে। আমি তার এই গৌরবময় যাত্রাপথে আশীর্বাদবাণী বর্ষণ করি।”
গাযাালীর বয়স যখন ২৮ বৎসর তখন ইমামুল হারামাইনের ইন্তেকাল হয়। ইমামের তিরোধানে সারাদেশে দীর্ঘ এক বৎসরব্যাপী সরকারীভাবে শোক পালিত হয়। শোকে উন্মত্ত জনগণ মসজিদের মিম্বর ভেঙ্গে ফেলে। শিক্ষার্থীগণ দোয়াত-কলম ভেঙ্গে পথে বের হয়ো আসে। পথে পথে শোকগাথা গেয়ে তাঁরা এলেমের দুর্দিন ঘোষণা করতে থাকেন।
প্রিয় ওস্তাদের তিরোধানে মর্মাহত গাযালীও নিশাপুর ত্যাগ করতে মনস্থ করেন। তাঁর শিক্ষাজীবন অনেক আগেই সমাপ্ত হয়েছিল। প্রিয় ওস্তাদের ছায়া মাথার ওপর হতে উঠে যাওযার পর তিনি তদানীন্তন যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বুযুর্গ আবু আলী ফারমাদির নিকট হাজির হয়ে আধ্যাত্মিক জ্ঞান অর্জনে ব্রতী হন।
যে সময় ইমাম গাযালী একজন অনন্য সাধারণ প্রতিভাধর আলেম হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন, সেই সময় মুসলিম দুনিয়ায় আলেম-উলামাগণের সমাদর ছিল। আমীর-ওমরাহগণ পর্যন্ত আলেমগণকে বিশেষ সম্মানের দৃষ্টিতে দেখতেন। ইমামুল হারামাইন কোন সময়ে উজিরে-আজম নিজামুল মূলকের দরবারে হাজির হলে নিজামুল মূলক দাঁড়িয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জ্ঞাপন করতেন।
180.00৳ Original price was: 180.00৳ .126.00৳ Current price is: 126.00৳ .
ছাড়
আপনার পছন্দের আরও বই






