অনশ্বর
গ্রামের গন্ডি ছাড়িয়ে বৃহত্তর ক্ষেত্রে যাবার আহ্বান শুধু নয়,এর মধ্যে সময়োচিত একটি চিন্তা ও অনুভূতি অবিচল চিত্তে প্রকাশ করেছিলেন মানবপ্রেমিক ও সমাজসচেতন লেখক এই রচনায় – ‘”পশ্চিমবঙ্গে আর কিছু হবে না,উদ্বাস্তু বহু এসেচে,যেখানে সেখানে গাছতলায় মাঠে শ্মশানে পড়ে মরচে। কেউ তাদের দিকে তাকায় না। কদিন ওদের এমন কষ্ট ভোগ করতে হবে কে জানে? যা নেবার ওরাই নিক বাংলাদেশ থেকে। না নিলে ওরা খাবে কি? শ্যামকে নিয়ে সে বাংলাদেশ ছেড়ে চলে এসেচে,এতটুকু পশ্চিমবঙ্গে আর কুলোবে না সব বাঙালীর। বাইরে বেরিয়ে পড়তে হবে বাংলার লোকের। এতদিন পৈতৃক জমির বোনা ধানের ভাত খেয়ে চলেছে,কিন্তু তাতে আর চলবে না। যে অন্নকষ্টের তাড়নায় জগতের বড়ো বড় জাতি বাইরে গিয়ে ছোটো বড়ো উপনিবেশ স্থাপন করেচে,দূর দুর্গম মরুভূমিতে সোনার খনির সন্ধানে বেড়িয়েছে,রকি পর্বতের শৃঙ্গে উঠেছে পাখির ডিম খুঁজতে,ডুবোজাহাজে রত্ন সন্ধান করেচে,শক্ত হাতে বর্বরদের সঙ্গে যুদ্ধ করে জঙ্গল কেটে আশ্রয় নির্মাণ করেচে,বাঙালীকে তাদের মতো হতে হবে।” পিতা-পুত্রের এক নিবিড়,স্বতঃস্ফূর্ত ও অকৃত্রিম ভালবাসার বন্ধনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এই উপন্যাসের কাহিনী। মানুষ নশ্বর,কিন্তু তার হৃদয়ের স্নেহপ্রীতি অবিনশ্বর,তা জন্ম-মৃত্যুর সীমানা পেরিয়ে জীবনের এপার থেকে মৃত্যুর ওপার পর্যন্ত বিস্তৃত। একেই সম্ভবত ‘অনশ্বর’ আখ্যা দিয়েছেন বিভূতিভূষণ
170.00৳ Original price was: 170.00৳ .133.00৳ Current price is: 133.00৳ .
22%
ছাড়
আপনার পছন্দের আরও বই






