শিক্ষার্থী সিলেবাস (নার্সারি)
(বিশেষ হেদায়েত) ১। শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল ও শিক্ষার মান উন্নতির জন্য নিয়মিত পড়াশোনা ও যথারীতি ক্লাসে উপস্থিত হওয়া অপরিহার্য। এজন্য অভিভাবকদের উচিত, শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া এবং কোন কারণ ব্যতীত প্রতিদিন ক্লাসে উপস্থিত করানো। মনে রাখবেন, ক্লাসে অনুপস্থিতির কারণে যেমন ভাবে ভালো শিক্ষার্থী লেখাপড়ায় খারাপ হয়ে যায়, তেমনি ভাবে ক্লাসে প্রতিদিন উপস্থিতির কারণে দুর্বল শিক্ষার্থী ও লেখাপড়ায় ভালো হয়ে যায়। বাস্তবতাই তাই বলে। ২। প্রতি সপ্তাহে বা ১৫ দিনে অথবা মাসে একবার হলেও শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া, উপস্থিতি এবং আমল-আখলাক নিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষক বা শ্রেণীশিক্ষকের সাথে অভিভাবকদের অবশ্যই যোগাযোগ রাখা কর্তব্য। ৩। নিজ সন্তানের মান-সম্মত খাবার, গোসল প্রতিদিন, পর্যাপ্ত পরিমাণে নিদ্রা ( বয়স ৫-১২ পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় ৮-১২ ঘন্টা নিদ্রা যেতে হবে দুই বারে) বিশ্রাম, অসুস্থতা এবং সামাজিক বিনোদনের দিকে সার্বক্ষণিক তীক্ষ্ণদৃষ্টি রাখুন, যেন এগুলোর কোনো ত্রুটি না হয় এবং এগুলো ব্যতীত অন্য কোন বায়না বা আবদার যথাসম্ভব না মানা। ৪। মোবাইল ফোন হাতে না দেওয়া ব্যক্তিগত বুঝদার না হওয়া পর্যন্ত। যদি ঘরে/বাসায় কম্পিউটার দিতে হয়, তাহলে কম্পিউটারে যেন ইন্টারনেট চালাতে না পারে এবং কারো মোবাইলে ফেসবুক/ইন্টারনেট চালাতে না পারে সেদিকে সব সময় নজরদারি করুন। বর্তমান সময়ের সন্তান নষ্ট এবং অশিক্ষিত হওয়ার এটাও একটি বড় কারণ। ৫। যথাসম্ভব কাহার ও সাথে বসে টিভি ইত্যাদি দেখতে দিবেন না এবং কারো বাসায় বা বাহিরে একাকী অবশ্যই বের হতে দিবেন না বুঝদার না হওয়া পর্যন্ত। ৬। খারাপ বাচ্চা বা বড়দের সাথে মিশতে বা বড়দের সাথে নিদ্রা যেতে দিবেন না। নিদ্রা থেকে উঠার পর বিদ্যালয়ে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এবং সন্ধ্যা হওয়া থেকে নিদ্রা যাওয়া পর্যন্ত দয়া করে কখনো একাকী ঘর/বাসার বাহিরে বের হতে না দেওয়া। এ সময় বাহিরে থাকা বর্তমান সময়ের সন্তান নষ্ট হওয়ার আর ও একটি বড় কারণ। ৭। যথা সম্ভব টাকা পয়সা হাতে দিবেন না। বাচ্চাদের হাতে টাকা দেওয়া বর্তমান সময়ে সন্তান নষ্ট হওয়ার আরও একটি বড় কারণ। একান্তই টাকা পয়সা দিতে হলে খরচ হওয়া টাকাগুলোর হিসাব নিন সবসময়। বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে এবং বিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় সে কখন কি করছে, তা গভীরভাবে নজরদারি করুন। একান্তই যদি কোন কারণবশত বের হতে হয়, তাহলে বাহিরে সে কখন কি করতেছে তাও সব সময় নজরদারি করুন। ৮। সব সময় সময় মত অর্থাৎ রাত ৯-১০টার মাঝে নিদ্রা যেতে বাধ্য করুন। তাহলেই আপনার সন্তান ৬০% সুস্থ থাকবে। পূর্বের কথাগুলো না মানলে সব সমস্যার সম্মুখীন নিজেই হতে হবে এবং সমাজের নিজেরই করতে হবে। সুতরাং বাচ্চাদের অন্তর দিয়ে ভালোবাসলে উপরের কথাগুলোর দ্বারা বাচ্চাকে শাসন করা আপনার জন্য শোভা পাবে এবং আপনার অজান্তেই সৎ ও যোগ্য সন্তান তৈরি হয়ে যাবে। শোকরিয়া।
30.00৳
আপনার পছন্দের আরও বই




